সর্বশেষ
প্রচ্ছদে ফিরুন

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ও শিক্ষা কাঠামো

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের রাজধানীতে সদ্য প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকার সাতটি ঐতিহাসিক সরকারি কলেজকে নিয়ে এটি গঠিত হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে পরিচালিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চ শিক্ষার প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং শিক্ষার্থীদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান নিশ্চিত করা।

শিক্ষা|৩ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০৭|পড়ার সময়: ৩ মিনিট|Zarrar Hyder
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ও শিক্ষা কাঠামো | পূর্ববঙ্গ ম্যাগাজিন

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ইংরেজি: Dhaka Central University; সংক্ষেপে DCU) হলো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬” [১] -এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে ঢাকা মহানগরের সাতটি সরকারি কলেজকে একটি একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে পরিচালিত হবে এবং সংযুক্ত কলেজগুলো নিজ নিজ পরিচয় ও অবকাঠামো বজায় রেখে এর অধীনে কাজ করবে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ইতিহাস মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাত সরকারি কলেজের অন্তর্ভুক্তি ও পরবর্তী সংকটের সাথে জড়িত। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এই কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালে তৎকালীন সরকার এগুলোকে পুনরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনে, যা ছিল মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং পূর্বাভাস বা মূল্যায়ন ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল বলে শিক্ষাবিদদের মতামতে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাকালীন সময়ে প্রায় ২.৫ লাখ শিক্ষার্থী সেশন জ্যাম, পরীক্ষার ফলাফল বিলম্ব, প্রশাসনিক জটিলতা ও অবকাঠামোগত সংকটে ভোগে। ২০১৯ সাল থেকেই এই কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু করে, যার মূল দাবি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথক একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় দাবি ও অধ্যাদেশ প্রক্রিয়া

দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাত কলেজের অন্তর্ভুক্তি বাতিল করে এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি” নির্ধারণ করে। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের মতামত চায়, যেখানে চারটি স্কুলে (স্কুল অফ সায়েন্স, আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ, বিজনেস স্টাডিজ, ল অ্যান্ড জাস্টিস) বিভক্ত করে কলেজগুলোকে একটি হাইব্রিড মডেলে (৩৫–৪০% অনলাইন ক্লাস) আনার প্রস্তাব করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন গড়ে তোলেন, যার ফলে সরকার পরে এই স্কুল ভিত্তিক কাঠামো থেকে সরে আসে।

২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে “ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬” জারি করেন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সাতটি কলেজ এর “সংযুক্ত কলেজ” হিসেবে কাজ করবে বলে ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কাজ করবে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসেবে থাকবেন একজন আচার্য (রাষ্ট্রপতি) এবং একজন উপাচার্য। এছাড়াও থাকবে প্রো-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সিনেট, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের মতো প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই সিলেবাস প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ ও ডিগ্রি প্রদানের দায়িত্ব পালন করবে।

সংযুক্ত কলেজসমূহ

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে নিম্নোক্ত সাতটি সরকারি কলেজ সংযুক্ত হবে:

১. ঢাকা কলেজ

২. ইডেন মহিলা কলেজ

৩. সরকারি তিতুমীর কলেজ

৪. সরকারি বাংলা কলেজ

৫. বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ

৬. সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ

৭. কবি নজরুল সরকারি কলেজ

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কলেজগুলোর নাম, পরিচয়, অবকাঠামো, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি এবং বর্তমান সুবিধাগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

শিক্ষা কার্যক্রম

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি মূলত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেলের আদলে পরিচালিত হবে, যেখানে সংযুক্ত কলেজগুলোতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোর্স চলবে, কিন্তু সিলেবাস, পরীক্ষা ও সার্টিফিকেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে। কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানের মতোই চলতে থাকবে।

অধ্যাদেশ জারির পর দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন জানান যে, তারা অধ্যাদেশটি পুনর্বিবেচনা করবেন এবং এটি তাড়াহুড়ো করে জারি করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করবেন। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিলিপি না করে গুণগত মানের দিক থেকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর মডেল ও প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। কিছু শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠন মনে করেন যে, এটি মূলত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি সংস্করণ মাত্র, যা শিক্ষার মান উন্নয়নে বড় ধরনের কোনো ভূমিকা রাখবে না। অন্যদিকে, কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দ্রুত বাস্তবায়ন চায়, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করে যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের ফলে কলেজগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সুযোগ–সুবিধা কমে যেতে পারে।

সূত্র

  1. .
    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

আরও পড়ুন