সর্বশেষ
প্রচ্ছদে ফিরুন

ইতিহাসে প্রথমবার টি২০ বিশ্বকাপে লাল-সবুজের অনুপস্থিতি

২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে না বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল চুক্তি এবং ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক শীতলতার জেরে নিরাপত্তা সংকটের কারণ দেখিয়ে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি ও সরকার। এই বর্জনের ফলে দেশের ক্রিকেটে প্রায় ৩২৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে ।

খেলাধুলা|২৭ ফেব, ২০২৬, ১৪:৪৫|পড়ার সময়: ২ মিনিট|Zarrar Hyder
ইতিহাসে প্রথমবার টি২০ বিশ্বকাপে লাল-সবুজের অনুপস্থিতি

টি২০ বিশ্বকাপের দশম আসরে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব। ২০০৭ সালে এই টুর্নামেন্টের সূচনার পর থেকে প্রতিটি আসরে অংশ নিলেও, ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দেখা যাবে না বাংলাদেশকে। ২০০৭ সালে যখন প্রথম টি২০ বিশ্বকাপ শুরু হয়, তখন থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিটি আসরে (মোট ৯টি) বাংলাদেশ নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছে। এই ৯টি আসর হলো - ২০০৭, ২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং ভারতের মাটিতে খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আপত্তির জেরে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক টানাপোড়েন শেষে বাংলাদেশ দল এই টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে স্কটল্যান্ড।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই সংকটের সূত্রপাত হয় ২০২৬ সালের আইপিএল-এর আগে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) তাকে ৯.২০ কোটি টাকায় দলে নিলেও, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্কের জেরে বিসিসিআই কেকেআর-কে মুস্তাফিজের চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়। বিসিসিআই-এর এই সিদ্ধান্তকে জাতীয় মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

২০২৬ বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে নির্ধারিত ছিল। বিসিবি নিরাপত্তার কারণে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। আইসিসি-র মতে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি দলের জন্য কোনো 'যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি' নেই। শেষ পর্যন্ত আইসিসি-র দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সত্ত্বেও বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়।

বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তে অন্তত দুইজন ক্রিকেটার ‘মানসিক কোমায়’ চলে গিয়েছিলেন। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং বিসিবি কর্মকর্তাদের সাথে খেলোয়াড়দের অভ্যন্তরীণ সংঘাত দেশের ক্রিকেটে এক অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্বকাপ বর্জনের ফলে বিসিবি প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা) আইসিসি রাজস্ব এবং স্পন্সরশিপ আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা তাদের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ। এই বিশাল ক্ষতি সামাল দিতে এবং খেলোয়াড়দের ব্যস্ত রাখতে বিসিবি ঘরোয়াভাবে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি২০ কাপ’ আয়োজন করেছে।

পুরুষ দল অনুপস্থিত থাকলেও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আইসিসি-র সাথে প্রশাসনিক সমঝোতার মাধ্যমে ২০২৮ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণের পথও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের এই বর্জন দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটের ভূ-রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী ক্ষত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র

  1. .
    নিজস্ব প্রতিবেদনপূর্ববঙ্গ ম্যাগাজিন